
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরকে পুরোপুরি ইসরায়েলের অংশ হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা চালাচ্ছেন। এ পদক্ষেপের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতোই এবার সৌদি আরবও তাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পশ্চিম তীর দখলের চেষ্টা করলে তেল আবিবের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গত সপ্তাহে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকে সউদী যুবরাজ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেছেন, পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা করলে আব্রাহাম চুক্তি এবং সৌদি–ইসরায়েল স্বাভাবিক সম্পর্ক চিরতরে ভেঙে যাবে। নেতানিয়াহু গত মাসগুলোতে গাজা দখল ও হামলার মাত্রা বৃদ্ধি করেছেন এবং পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের মানচিত্রে যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা আরব বিশ্বের প্রতিক্রিয়া তীব্র করেছে।
ইসরায়েল গত ২৩ মাস ধরে হামাস উৎখাত এবং গাজার জিম্মিদের মুক্তির নামে বর্বরতা চালাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহু প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। এ কারণে নেতানিয়াহু আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথমেই তাকে সতর্ক করেছে। এরপর সৌদি আরবও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কেএএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, পশ্চিম তীর দখলের পথে এগোলে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।
এর আগে আমিরাতও পশ্চিম তীরকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছে। আব্রাহাম চুক্তির মূল শর্তই ছিল ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল থেকে সরে আসা। যদি তেল আবিব এই শর্ত অমান্য করে, তবে আমিরাত ও সৌদি উভয়ই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার হুমকি দিয়েছে।
সৌদি সূত্র জানায়, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের মানচিত্রে সংযুক্ত করার যেকোনো পদক্ষেপ শুধু আব্রাহাম চুক্তি ভাঙবে না, বরং সৌদি–ইসরায়েল স্বাভাবিক সম্পর্কও চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র : জেরুজালেম পোস্টে