
বিহারের ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছে। প্রাথমিক হিসেবে রাজ্যে ভোটগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪.৬৬ শতাংশ, যা বিহারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০০০ সালে—৬২.৫৭ শতাংশ। আর লোকসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট হয়েছিল ১৯৯৮ সালে—৬৪.৬ শতাংশ।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিহারের মানুষকে ধন্যবাদ জানাই এত বড় সংখ্যায় ভোট দিতে এগিয়ে আসার জন্য, এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য।’
তবে এই উচ্চ ভোটের পেছনে রয়েছে বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, এই ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বহু ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে রাজ্যের ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৮৯ লাখ থেকে কমে ৭ কোটি ৪২ লাখে নেমে এসেছে—প্রায় ৪৭ লাখ ভোটার কম।
বিহারের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, সাধারণত উচ্চ ভোটের হার মানে সরকারবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) ও কংগ্রেস—এটি নিজেদের অনুকূলে দেখছে।
তবে উচ্চ ভোট সব সময় ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে যায় না। ছত্তীসগড় ও মধ্যপ্রদেশে অতীতে ভোটের হার বেড়েও বিজেপি বারবার জিতেছে।
এই দফায় বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ১২১টিতে ভোট হয়েছে। বাকি ১২২টি আসনে ভোট হবে ১১ নভেম্বর, আর ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৪ নভেম্বর।
গতবার ২০২০ সালের নির্বাচনে আরজেডি ৭৫ আসন নিয়ে এককভাবে বৃহত্তম দল হয়। বিজেপি পেয়েছিল ৭৪, জেডিইউ ৪৩, এবং কংগ্রেস ২৮টি আসন।