
ভারতের উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, আসামসহ অনেক রাজ্যে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে বুলডোজার। মুসলমানদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বুলডোজার নীতির জন্মদাতা উত্তর প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১৭ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসে বুলডোজারকে তিনি সুশাসনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেয়া ভারতের বিজেপি সরকারের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক সুমাইয়া ফাতেমা তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘মুসলমান হওয়ার কারণেই আমাদের টার্গেট করা হচ্ছে।’
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রার সময় একটি ব্যানারে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা থাকায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য এফআইআর দায়ের করা হয় এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১৫৩এ সহ অন্যান্য ধারায় গ্রেপ্তার ও বাড়িঘর ভাঙার অভিযোগ উঠে। ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয় শতাধিক মুসলমানের বিরুদ্ধে।
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে পাঁচটি রাজ্যে কর্তৃপক্ষ ১২৮টি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে, ভেঙে ফেলা হয়েছে তা মুসলমানদের। এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় কোনো আগাম নোটিশ, আদালতের নির্দেশ এবং যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ধ্বংসযজ্ঞকে বেআইনি ও বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে।
তারা ভারতে মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করতে চায়। তারা মুসলমানদের সামাজিকভাবে হেয় করতে চায়, তাদের সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা ধ্বংস করতে চায়। হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই আরএসএ-এর লক্ষ্য।
নরেন্দ্র মোদি প্রথম যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন থেকেই তিনি এই লক্ষ্য পুরণে বিভিন্ন আইন ও কৌশল গ্রহণ করেন। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন থেকে শুরু করে বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ এবং মুসলমানদের নামাজের স্থান নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেন নেয় মোদি সরকার। ২০২২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখ ৫৩ হাজার ৮২০টি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন সাত লাখ ৩৮ হাজার ৪৩৮ জন মানুষ ।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এসব ধ্বংসযজ্ঞকে অসাংবিধানিক হিসেবে রায় দিয়েছে। রাষ্ট্রের নির্বিচার পদক্ষেপ কমিয়ে আনতে নির্দেশনাও দিয়েছে। পুলিশ চাইলেই বুলডোজার নিয়ে গিয়ে ঘর-বাড়ি ভেঙে দিতে পারবে না। তারপরও আইন অমান্য করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড