
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার করুণতায় কাঁপছে পুরো দেশ, আর আহত ও নিহতের স্বজনরা ছুটছে হাসপাতালে, রক্ত দিচ্ছে, পরিচিতদের শনাক্ত করতে হাহাকার করছে।
ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তে রাজধানীর উত্তরা উত্তর মেট্রো থেকে মির্জা মন্সুর আলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে মানুষের আর্থিক দুর্দশাকে কাজে লাগিয়ে সুযোগ নিচ্ছে অটোরিকশা চালকরা। উত্তরা-উত্তর মেট্রোর নিচে থেকে মু্যুর আলি মেডিকেল যেতে রিকশাওয়ালারা ৩০-৪০ টাকার রিক্সা ভাড়া ১০০ টাকা চাচ্ছে,না হলে যাবে না। মাইলস্টোন কলেজ থেকে আধুনিক হসপিটাল - CNG ভাড়া 1000 টাকা।
সাধারণত ৫০ টাকায় যাওয়া যেত এমন রুটে আজ তারা ভাড়া দাবি করছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। অনেক চালক স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, ‘এই ভাড়া না দিলে যেতে পারবেন না’। পরিস্থিতি বুঝে তারা সময় ও মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে এক ধরনের জিম্মি করার মানসিকতা প্রকাশ করছে। এক রক্তদাতা বলেন, “আমরা রক্ত দিতে যাচ্ছিলাম। অটো চালক ৪৫০ টাকা চাইলো। শেষ পর্যন্ত হাঁটেই গেছি।” আরেক স্বজন জানান, “আমার পরিচিতের মৃতদেহ শনাক্ত করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু ভাড়া শুনে হতবাক হয়ে গেছি।”
মাইলস্টোন বিমান বিধ্বস্ত দুর্ঘটনার করুণ ছবি যেন আজ ঢাকা শহরের মানুষের দুর্দশার আকাশছোঁয়া প্রতিফলন। যেখানে একদিকে মৃত্যুর শোক, আরেকদিকে সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষের লোভ ও নিষ্ঠুরতা। বিপদের দিনে সহানুভূতি হারিয়ে গেলে মানবতা হারায় সমাজ। আজ এই বাস্তবতা আমাদের চিন্তা করার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সত্যিকারের মানুষ হতে পারিনি।