
কামাল হোসেন ।।ঢাকা।।
সালটা ২০১৯। ঐ বছরের শেষ দিকে সারাদেশ তোলপাড় তুললো ক্যাসিনো কান্ড। সেই কান্ডে দেশবাসীর সামনে আসে বেশ কয়েকজনের নাম। সবাই কে ছাপিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনায় সামনে আসে ততকালীন যুবলীগ নেতা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এর নাম। ক্যাসিনো ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া, এবং তার রাজকীয় জীবনযাপন চলাফেরা দেশবাসীর সামনে এলে বাংলাদেশে ওই সময় এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। সরকারের ভাবমূর্তি বাঁচাতে সম্রাট কে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে নিয়ে কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর (পরদিন) র্যাব-১-এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর আদালতে অস্ত্র মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর উপপরিদর্শক (এসআই) শেখর চন্দ্র মল্লিক। গ্রেফতারের পর ৩২ মাস জেলে থাকার পর ২০২২ সালে প্রথম জামিনে বের হয় সম্রাট।
গত ১৬ জানুয়ারি সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
অস্ত্র আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর বিল্লাল হোসেন এ তথ্য জানান।
ওই দিন আসামি উপস্থিত না থাকায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
বিচার চলাকালীন মোট ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। গত ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।