
কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার অনুসারীরা মুখোমুখি। প্রতিদিনই এ দুই নেতার কর্মী-সমর্থকরা সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরকে কথার আক্রমণ করছে। মূলত কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে আগামী নির্বাচন ঘিরে নানা সমীকরণ থেকে এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে কায়কোবাদ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। অপরদিকে আসিফ মাহমুদের বাড়ি এ উপজেলায়। তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে দুই নেতার অনুসারীদের দ্বন্দ্বের ফাঁকে নীরবে উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হাকিম সোহেল।
জানা যায়, আসনটি বিএনপির ভোটব্যাংক। এ উপজেলায় দলটির বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। এখানে জামায়াতের জনসমর্থন ও সাংগঠনিক কাঠামোও সুদৃঢ়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ আসন থেকে যিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পাবেন, তার জয়ের সম্ভাবনা বেশি। আগামী নির্বাচনে কায়কোবাদ মনোনয়ন পাবেন এবং নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী তার অনুসারীরা। আসিফ মাহমুদ এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে তার কর্মী-সমর্থকরা দাবি করলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি এ উপদেষ্টা। তবে দুই নেতার অনুসারীরা প্রকাশ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। এর আগে অনুসারীদের মাঝে হামলা-মামলা, সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিদিনই সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে কি এ আসন থেকে আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে লড়বেন? নাকি তিনি উন্নয়নকাজ করেই সীমাবদ্ধ থাকবেন? এলাকায় এমন নানা আলোচনা ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এদিকে এসব দ্বন্দ্ব এড়িয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী সোহেল। মিষ্টিভাষী এ তরুণ প্রার্থীকে নিয়ে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।