
খুলনা ব্যুরো: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-২ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন, তিনি হলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, দলীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
১৯৮৩ সালে সামরিক শাসনামলে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ১৯৮৬ সালে মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯০ সালে সভাপতি এবং ২০০৮ সালে মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে মহানগর বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ও ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মহানগর বিএনপির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের কাউন্সিলে পুনরায় খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে নয়বার কারাবরণ করেছেন শফিকুল আলম তুহিন। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং আন্দোলনকে সক্রিয় রেখেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে মূলত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে।
ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। করোনা মহামারীর সময় শতাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করে “করোনা কল সেন্টার” স্থাপন করেন, যাতে মানুষ বিনামূল্যে অক্সিজেন ও ওষুধ পেতে পারে। কর্মহীন মানুষের বাড়িতে খাবার ও আর্থিক সহায়তাও পৌঁছে দেন তিনি।
এছাড়া নগরবাসীর সুবিধার্থে পরিত্যক্ত পুকুর সংস্কার, বৃক্ষরোপণ, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং শিক্ষা-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তুহিন। তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে শফিকুল আলম তুহিন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বিএনপির প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা, অসুস্থদের চিকিৎসা ব্যয় বহন এবং অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষায় সহযোগিতা করে তিনি নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন।
খুলনা-২ আসনের স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, এ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার প্রতীক। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের কাছেই এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও মনে করেন, তুহিন একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতা, যার জনপ্রিয়তা উপেক্ষা করার মতো নয়।
ভোটারদের মতে, পানি সংকট, বেকারত্ব, শিল্পকারখানার অবক্ষয় ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে জর্জরিত খুলনা-২ আসনের মানুষ একজন সাহসী, সৎ ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে। অনেকেই মনে করেন, শফিকুল আলম তুহিনই সেই নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল আলম তুহিন বলেন, আমি রাজনীতি করি জনগণের সেবা করার জন্য। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, মানুষের কল্যাণই আমার রাজনীতির লক্ষ্য। করোনা মহামারীতে যখন মানুষ শ্বাসকষ্টে ভুগছিল, তখন শতাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কল সেন্টার খুলেছিলাম। কর্মহীন মানুষের বাড়িতে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছি। বন্যায় নিজে মাঠে নেমে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছি। রাজনীতি মানেই মানুষের দুঃখে পাশে থাকা।
তিনি আরও বলেন, খুলনা-২ আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করলে আমি প্রথমেই পানির সংকট নিরসন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের জন্য আধুনিক শিক্ষা ও শিল্প পুনর্জাগরণের কাজ শুরু করব। উপকূলীয় এলাকার টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি আমার অগ্রাধিকার।
শেষে তিনি বলেন,খুলনা-২ আসনের মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। আমি সেই ভালোবাসাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে মানুষের প্রকৃত সেবক হতে চাই। আমার লক্ষ্য কেবল জয় নয় এই আসনকে একটি উন্নত, আধুনিক ও মানবিক আসন হিসেবে গড়ে তোলা।