
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচের আগেই সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আমি রাজনীতিতে যুক্ত। রাজনীতিতে আছে, এমন কারো নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা উচিৎ না। তাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আমি সরকার থেকে সরে যাবো।’
গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক টেলিভিশন ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের টকশোতে তিনি এ তথ্য জানান। তবে রাজনীতিতে যুক্ত হলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেবেন কি না টকশোতে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
টকশো’তে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন ও এক বছরের কার্যক্রম, এই সময়ের সরকার ও রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা, জুলাই আন্দোলনের মিত্র দলগুলোর মধ্যে বিভাজন, আগামী জাতীয় নির্বাচন, নিজের রাজনৈতিক গন্তব্য, মুরাদনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
‘পতাকাবাহী গাড়ি নয়, ক্ষমতার মোহ নয় বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে সোচ্চার থাকা নিশ্চিত করতেই সরকারে আছেন’-এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। এর মধ্যে বড় মাইলফলক জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়া হলো। স্থানীয় সরকারের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় আছে। এসব দায়িত্ব শেষ করে যেতে না পারলে ঐতিহাসিক দায় থেকে যাবে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা দিকে নানা শক্তি সক্রিয়, সেই ইঙ্গিত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘একটি মহল জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনার তোড়জোড় করছে। এই দলকে প্রধান বিরোধীদল হিসেবে সামনে আনতে চায় তারা। আওয়ামী লীগের যেসব নেতার ইমেজ ভালো, তাদেরও জাপার হয়ে নির্বাচনে নিয়ে আসার পাঁয়তারা চলছে।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আরও বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এর দায়টা পড়ছে আমার ওপর। অথচ শুধু আমি না আমাদের সরকারের ইচ্ছে থাকলেও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজন করতে পারছি না। সব দল রাজি থাকলেও বিএনপি ও তাদের সহযোগী কিছু দল মূলত এই নির্বাচনে রাজি হচ্ছে না।