
গোপালগঞ্জের এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সমাবেশে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সবাই বলেছেন, এতো কিছুর পরও একটা পলাতক শক্তির রাজনীতি জনগণ দ্বারা প্রত্যাখাত হয়েছে, তাদের মধ্যে পরিবর্তন আসেনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি( উদ্যোগে ‘জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংস্কারের রুপরেখা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের অনুধাবন করতে হবে, যে দলটি এই কাজটি করেছে- এটা তাদের রাজনীতির শুরু থেকে এই কাজটা শুরু করেছে। এই দলটি জন্ম নেয়া থেকে আজ অবধি ওদের কোনো পরিবর্তন হয় নাই। ওদের(আওয়ামী লীগ) রাজনীতি হচ্ছে পেশী শক্তি দেখানো, সরাসরি পেশীশক্তির রাজনীতি। তার মাধ্যমে তারা মনে করে রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে।
তিনি বলেন, কোনো সময়ে দলীয় ক্যাডারের পেশীশক্তি, ক্ষমতায় থাকলে পুলিশের পেশীশক্তি, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের পেশীশক্তি অথবা সরকারের মধ্যে যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের মাধ্যমে পেশীশক্তি, মোটামুটি এক কথায় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজনীতি। সেখানে থেকে তাদের বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। এটা আওয়ামী লীগের ডিএন এর মধ্যে আছে। গোপালগঞ্জে যেটা দেখেছি, সবাই বলেছেন, এতো কিছুর পরও একটা পলাতক শক্তির রাজনীতি জনগণ দ্বারা প্রত্যাখাত হয়েছে, তাদের মধ্যে পরিবর্তন আসে নাই। এসময়ে পতিত ফ্যাসিস্টদের প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান খসরু।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট যদি না থাকে তাহলে কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। আমরা বহু আগে বহু কিছু করেছি, কোনোটাই টিকে নাই। জনগণের মাধ্যমে যেটা পরিবর্তন হবে, সেটাই একমাত্র পরিবর্তন।
এজন্য যে জায়গাগুলোতে আমরা ঐকমত্য পৌঁছবো, তার বাইরে এটাকে নিয়ে যদি আমরা সময় নষ্ট করি তাহলে কিন্তু আমরা ওইসব দেশের পরিণতি আমাদেরকে ভোগ করতে হবে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান বলেন, গোপালগঞ্জে যেটা হলো আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম, সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? নাকি ওরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ৪টা মরুক তারপরে আমরা কিছু করব। পরে বিরাট একটা বিবৃতি দিয়েছেন, কাউকে ক্ষমা হবে না। এই সমস্ত ক্ষমা করার বিবৃতি কোনো কাজে আসবে? চারজন মানুষ তো মারা গেছে। গোপালগঞ্জের মানুষ কোন দল করে কোনো পত্রিকায় লেখেনি। ধরে নেই তারা যে দলেরই হোক, তার মৃত্যু তো আমি কামনা করি না। আমি চাই, একটা শান্তিপূর্ণ দেশ। সেই রকম দেশ বানাতে হলে সরকারের দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।
বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গোপালগঞ্জের ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা করেছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং বলেছি- সরকার ও প্রশাসনের অবহেলা, অমনোযোগ এবং পেশাদারিত্বের ঘাটতির জন্য এই ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। আমরা বলেছি, অনুশোচনাবিহীন একবছর পার হয়েছে, এখনও ক্ষমা প্রার্থনা দূরের কথা ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা আমরা আওয়ামী লীগের মধ্যে লক্ষ্য করিনি।
জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের সঞ্চালনায় সভায় গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ভাসানী জনশক্তি পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, গণফোরামের মিজানুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।