প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইসরাইল: দাবি ফার্স নিউজের

whatsapp sharing button

সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় গত ১৫ জুন, যখন তেহরানে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংসদ স্পিকার, এবং বিচার বিভাগের প্রধান। ফার্স নিউজ-এর দাবি অনুযায়ী, ইসরাইল বৈঠকস্থলে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্টসহ তিন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। এই হামলার পেছনে কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-ইসরাইল সাম্প্রতিক সংঘাত এবং হিজবুল্লাহ প্রধানের মতো কৌশলগত হত্যা প্রচেষ্টা।

ইরানের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ইসরাইল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। দেশটির ক্ষমতাসীন মহল এ ঘটনাকে ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক ‘সন্ত্রাসী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করছে। যদিও ইসরাইল এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানায়, তেহরানের গোপন এক স্থানে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই সেখানে হামলা হয়। ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা ব্যবহার করে ভবনের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি প্রোটোকল অনুযায়ী নিরাপদে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এই হামলায় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পায়ে হালকা আঘাত পান, যা তিনি ভবন থেকে পালানোর সময় পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এখনো পর্যন্ত হামলায় সরাসরি কারো মৃত্যু হয়নি, তবে এটি ছিল স্পষ্টভাবে একটি শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হামলা।

ফার্স নিউজ আরও দাবি করে, এই অভিযানের ধরন ছিল হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে বৈরুতে হত্যাচেষ্টার আদলে পরিকল্পিত। সন্দেহ করা হচ্ছে, কোনো গুপ্তচর বা অভ্যন্তরীণ সূত্র হয়তো ইসরাইলকে গোপন বৈঠকের তথ্য জানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেছেন, তবে তিনি তারিখ বা ঘটনার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থাপক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, “তারা (ইসরাইল) চেষ্টা করেছিল। হ্যাঁ, তারা সেই অনুযায়ী কাজ করেছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।” তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল