শুক্রবার (১ আগস্ট) অবরুদ্ধ গাজায় মাত্র ৭৩টি মানবিক ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে, যা ওই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের থেকে অনেক কম। দীর্ঘদিনের অবরোধ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ত্রাণ সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে। গাজার সরকারী মিডিয়া অফিসের বরাতে জানা গেছে, অধিকাংশ ট্রাক লুটপাটের শিকার হয়েছে, যা তারা ইসরায়েলের বাহিনীর নিরাপত্তা শূন্যতার ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করেছে।
উল্লেখ্য, ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের এই সংকট চলতি বছরের ৩ মার্চ থেকে ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তীব্রতর হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য, খাদ্য ও অন্যান্য সেবা খাতগুলো সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দৈনিক অন্তত ৬০০টি ত্রাণ ও জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাক প্রবেশ করা প্রয়োজন, যাতে জরুরি চাহিদাগুলো মেটানো যায়।
সরকারি মিডিয়া অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অবরোধ এবং নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি একটি পরিকল্পিত নীতি, যা গাজায় “সন্ত্রাসবাদের মতো অনাহার ও বিশৃঙ্খলার” পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা ইসরায়েল ও তার সহযোগী দেশগুলোর প্রতি দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে বলেছে, এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য তারা “সম্পূর্ণরূপে” দায়ী। তারা অবিলম্বে সব সীমান্ত পথ খুলে পর্যাপ্ত খাদ্য, জ্বালানি এবং শিশুদের জন্য ফর্মুলা দুধ প্রবেশের দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েল গত ১৮ বছর ধরে গাজায় অবরোধ চালিয়ে আসছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি (ICC)-তে গত বছর নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী যোগাভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক আদালতে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে ইসরায়েলকে।
তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি