ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের অবস্থান সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে বলে দাবি করেছে মোসাদ। তেহরান সেগুলি ব্যবহার করার চেষ্টা করলে তাতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাটি। রবিবার অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
অন্যদিকে, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের জুন মাসের হামলার সময় কয়েক ডজন নারী মোসাদ এজেন্টকে ইরানের অভ্যন্তরে মোতায়েন করা হয়া বলে জানিয়েছে গণ মাধ্যমটি, যারা ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ ভূমিকা পালন করে
জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার মতে, ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের বিমান হামলার আগে ইরানের কাছে ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম (৯৭২ পাউন্ড) ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানকে অস্ত্র বানানোর মতো ইউরেনেয়িামের মজুদ আছে কিনা, তার অবস্থান প্রকাশ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, মোসাদ ইউরেনেয়িাম মজুদের অবস্থান জানে এবং তেহরান যদি ইউরেনিয়াম নিয়ে কোনো নতুন বিপজ্জনক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে তবে তারা তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
বৃহস্পতিবার, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্বীকার করেছেন, হামলার পর ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।
আরাঘচির মন্তব্য এমন সময় এলো যখন জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ‘একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়’। জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকে সংস্থাটির দেশটিতে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রমে নেই।
তবে, জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বেনামী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরান যদি অবিলম্বে তার পারমাণবিক কর্মসূচির বোমা-আক্রান্ত উপাদানগুলি পুনর্গঠন শুরু করে, তবে একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে ইসরায়েলের জুন মাসের হামলার সময় কয়েক ডজন নারী মোসাদ এজেন্টকে ইরানের অভ্যন্তরে মোতায়েন করা হয়া।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোসাদের পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া ১২ দিনের সংঘাতের সময় ওই নারীদের ভূমিকা ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসাবে দেখেছিলেন।
তাদের সঠিক কার্যক্রম গোপন রাখা হলেও জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গুপ্তচর সংস্থাটি নজরদারি থেকে শুরু করে গতিশীল অভিযান পর্যন্ত সব ধরনের মিশনে ক্রমবর্ধমানভাবে নারীদের নিযুক্ত করছে
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বার্নিয়া শত শত এজেন্টকে একই সাথে ইরানে অভিযানে পাঠিয়েছিলেন। রাডার প্ল্যাটফর্ম, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসরায়েলি জেট দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত স্থানগুলি তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল। এসব এজেন্টের মধ্যে মোসাদ নিয়োগ করা ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীও ছিল। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল