অনতিবিলম্বে জঙ্গি ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা জরুরি হয়ে পড়েছে

whatsapp sharing button

মীরপুরের বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী, রাষ্ট্রদ্রোহী, জঙ্গি সংগঠন ইসকনকে অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৯৬৬ সনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কনসাইসেস বাংলায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ চেতনা সংঘ’ নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন নাম দেয়া হলেও এর আড়ালে ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে গভীর ষড়যন্ত্র। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে এর প্রধান কার্যালয়। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে ধর্মান্তকরণ, জোরপূর্বক ভূমি দখল, নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠন, গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, প্রতিপক্ষের ওপর জুলুম নির্যাতনসহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত এই সংগঠনটি। সম্প্রীতি ইসকন নামক এই সংগঠনটি বাংলাদেশ বিরোধী ভারতীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বায়বীয়, বানোয়াট, কাল্পনিক ও অলিক চিত্র তুলে ধরছে। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা, বাংলাদেশের বাণিজ্য, পর্যটন, কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করা, বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ বৃদ্ধি করা, সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়া।

খতিব বলেন, কয়েক মাস পূর্বে ইসকনের অপকর্ম তুলে ধরার কারণে বিশিষ্ট আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইসকনের সদস্যরা। হাজারো মুসলিম মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা ধর্ষণের মতো অশ্লীল কার্যকলাপে তাদের কোনো অন্ত নেই। সর্বশেষ গাজীপুরের বিশিষ্ট খতিব মাওলানা মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে ইসকন সদস্যরা একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে হুমকি দিয়ে পরে গুম করে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এক কথায় ভারতের আরএসএসের মদদ পুষ্ট উগ্র হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশে এখন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এখনই যদি ওদের টুটি চেপে না ধরা যায় তাহলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য মহাবিপদ। অবস্থা দৃষ্টে যা বোঝা যায় ইসকন সদস্যরা এখন মুসলিম মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের ইজ্জত লুণ্ঠন করা, ভয় ভীতি হুমকি দিয়ে ইমাম খতিবদের মাধ্যমে তাদের প্রেতাত্তাদের বন্দী করা ঠিক হয়নি বলে তাদের পক্ষে বক্তব্য দেয়ার ব্যবস্থা করা ও সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার লক্ষে বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যাওয়া মুখ্য উদ্দেশ্য। দেশপ্রেমিক সর্বশ্রেণির জনগণের পক্ষ থেকে ‘ইসকনকে’ নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তাদের সর্বপ্রকার কার্যক্রম বন্ধ করার তীব্র দাবি উঠেছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোপরি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এক্ষুনি ইসকন নামক জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। আল্লাহ তা‘য়ালা ইরশাদ করেন, ওরা তোমাদের কোনো উপকার করবে না। যতক্ষণ তোমরা তাদের ধর্ম মত পথ গ্রহণ না করবে। (আল কুরআন)

রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর রহমতিয়া জামে মসজিদে খতিব মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন গতকাল জুমার বয়ানের বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে ইসকন তারই একটি সংগঠন। ইসকন কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান না, ইসকন মূলত রাষ্ট্রবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গি সংগঠন। সনাতন ধর্মের মুখোশ পরে এ দেশে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট করার জাল পেতেছে ইসকন। তিনি আরো বলেন, ইসকন শুধু মুসলমানদের নয় সমগ্র হিন্দুদের জন্যও ক্ষতিকারক। তারা সরাসরি ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের অর্থে পরিচালিত। ইসকনের প্রধান কাজ হচ্ছে মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করা এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করা। এর অংশ হিসেবে তারা বার বার আল্লাহ-রাসূল, কোরআন-হাদিস ও ইসলাম অবমাননা করে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানছে। সম্প্রতি হিন্দু যুবক কর্তৃক কোরআন অবমাননা, আলিফ হত্যাকা-, মুসলিম মাদরাসা ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, টঙ্গী মসজিদের খাতিব মাওলানা মুহিব্বুল্লাহকে হত্যা চেষ্টা ইসকনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। এহেন জঘন্যতম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়।

আরো বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক জঙ্গি সংগঠন ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত এখনই ইসকনের অপতৎপরতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া। পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় ইসকনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ইসকনের সব কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। আল্লাহ সবাইকে ছহি বুঝ দান করুন। (আমিন)


গুলিস্তানস্থ ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে জামে মসজিদে জুমার পূর্বে বয়ানকালে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ইসকন কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয়; বরং এটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস-এর একটি অঙ্গসংগঠন। ধর্মীয় ছদ্মবেশে ইসকন বাংলাদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদ ছড়ানোর চেষ্টা করছে।


খতিব অভিযোগ করেন, বিগত সরকার ইসকনকে দীর্ঘ ১৬ বছর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই সংগঠনটি আজ এতটা দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। ইসকনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে মাওলানা রাব্বানী বলেন, ‘এই সংগঠনকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। সিঙ্গাপুর ও আফগানিস্তানের মতো দেশেও তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি এখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরও দাবি।’
তিনি আরো বলেন, অনেক হিন্দু সংগঠনও স্বীকার করেছে যে ইসকনের কর্মকা- হিন্দুধর্মের ভাবমর্যাদাকে ক্ষুণœ করছে। তাই ইসকনের কর্মকা-ের তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানেরও দাবি জানান।