বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যু, ডেঙ্গুর আচরণে নাটকীয় পরিবর্তন

whatsapp sharing button

ঢাকার মিরপুরের গৃহবধূ সালমা বেগম (৩৫) জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খান। কিছুটা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে আবার জ্বর আসে। এরপর দ্রুত প্রেশার কমে যায়, প্লাটিলেট নেমে যায় বিপজ্জনক পর্যায়ে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটর আইসিইউতে তিনদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি তাকে।

এই অবস্থার শিকার তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী (২৫)। সপ্তাহখানেক আগে জ্বর শুরু হলে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খান। কিছুটা উন্নতির পর আবার জ্বরসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিলে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পাঠানো হয় রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরদিনই আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার সেখানেই মারা যান তিনি।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের এমন আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে বিস্মিত চিকিৎসকরাও। তারা বলছেন, ডেঙ্গুর বর্তমান ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট আগের চেয়ে অনেক আক্রমণাত্মক। রোগীর শরীরে দ্রুত শক সিনড্রোম দেখা দিচ্ছে এবং ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হচ্ছে।

এবার তরুণরা বেশি সংক্রমিত হচ্ছে এবং আক্রান্ত হলেই দ্রুত শক সিনড্রোমে চলে যাচ্ছে। প্রথম দফায় সামান্য জ্বর সেরে যাওয়ায় রোগীরা অসচেতন থাকছেন কিন্তু শরীরের ভেতরে প্লাটিলেট ও অক্সিজেন স্যাচুরেশনের অবনতি হয় অজান্তে। রোগীর পাশাপাশি চিকিৎসকরাও এটি ধরতে পারেন না। ফলে দ্বিতীয় দফায় সামান্য জ্বর হঠাৎ গুরুতর পর্যায়ে চলে গেলে সেখান থেকে স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যায়। বর্তমানে দ্রুত শনাক্ত করা এবং ফ্লুইড ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এদিন তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা ২৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ শতাংশ এবং মোট মৃত্যুর ৫৩ শতাংশই পুরুষ।