‘রিমোট কন্ট্রোল রাজত্ব’ জেলখানা থেকে ছোট সাজ্জাদের

whatsapp sharing button

ছোট সাজ্জাদ চট্টগ্রামের এখন এক অদ্ভুত অবস্থানের নাম। জেলখানায় বন্দি, কিন্তু বাহিরের পুরো অপারেশন চলছে তার নির্দেশে। কেউ কেউ একে বলেন, ‘রিমোট কন্ট্রোল রাজত্ব’। যেখানে জেলের ভেতর থেকেই সাজ্জাদ ঠিক করেন কে কোথায় যাবে, কার বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে, এমনকি কোন এলাকায় কবে মুভ করবে তার বাহিনী।

গত আট মাসে অন্তত ৫টি হত্যাকাণ্ড ও সাতটি হামলার ঘটনায় সাজ্জাদ গ্রুপের নাম এসেছে। এরমধ্যে ৫টি ঘটনায় সরাসরি গুলি ছুড়েছে তার সহযোগীরা। পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, কারাগারে বসেই সাজ্জাদ ‘টার্গেট লিস্ট’ তৈরি করে পাঠান তার আস্থাভাজন রুবেল ও সোহেলকে।

বুধবার রাতে বায়েজিদ থানার চালিতাতলীর খন্দকার পাড়া এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় গুলিবিদ্ধ হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এ সময় তার সহযোগী শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন। পুলিশ বলছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছোট সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান গ্রুপ।

সূত্র জানায়, সাজ্জাদ কারাগারের ভেতর থেকেই একাধিক ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তার বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই নেটওয়ার্ক এতটাই গোছানো যে, জেলের দেয়াল যেন আর কোনো বাধা নয় তার জন্য।

জানা গেছে, সাজ্জাদের একাধিক ‘বিশ্বস্ত লিংকম্যান’ রয়েছে যারা প্রতি সপ্তাহে পরিবার বা আইনজীবীর দেখা-সাক্ষাতের আড়ালে তার নির্দেশগুলো বাইরে পৌঁছে দেয়। সাক্ষাৎকারে সাজ্জাদ কোডওয়ার্ড ব্যবহার করেন-যেমন ‘চা বানাও’ মানে অপারেশন শুরু, ‘খাম পাঠাও’ মানে অর্থ পাঠানো সম্পন্ন। এই কোডগুলো সাক্ষাৎ শেষে লিংকম্যানরা বাহিরে এসে ডিকোড করে সংশ্লিষ্ট বাহিনী বা সহযোগীদের পাঠায়।

একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সাজ্জাদ খুব সাবধানি। কখনো স্পষ্ট করে কিছু বলে না। কথার মধ্যে ইঙ্গিত দেয়। তাতেই নির্দেশ বুঝে যায় তার লোকজন।’

একজন জেল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কয়েদি আসলে তার ‘কর্মচারী’। ওরা ফোন লুকিয়ে রাখে, চার্জ দেয়, এমনকি কল রিসিভ করেও বাইরে বার্তা পাঠায়।’

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি, সে জেল থেকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু হাত বাঁধা। তার দাবি, সাজ্জাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার। এরা প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়ে সাজ্জাদের জন্য ‘বিশেষ সুবিধা’ নিশ্চিত করেন।

সাইবার ইউনিট সূত্র জানিয়েছে, সাজ্জাদের ব্যবহৃত সিমগুলো সব ‘ব্ল্যাঙ্ক সিম’, যেগুলো একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হয়।

ফলে ডিজিটাল ট্র্যাক মেলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিছু বার্তায় শুধু ইমোজি ব্যবহার করা হয়।সাজ্জাদ হয়ত বন্দি, কিন্তু বাস্তবে সে এখনো মুক্ত। তার ফোনের ওপাশেই চলছে এক অদৃশ্য রাজত্ব।