খুলনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ

whatsapp sharing button

খুলনার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি সরদার বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার সংগঠক এস এম দেলোয়ার হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, নাগরিক নেতা ও পরিবেশবিদ, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুর রহমান, দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক রোটাঃ আলহাজ্ব সরদার মোঃ আবু তাহের, সাবেক ছাত্রনেতা ও বেতার ব্যক্তিত্ব এস এম চন্দন, নাগরিক আইন পরিষদের ইনস্ট্রাক্টর অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান, আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা প্রকৌশলী এস কে মাহমুদসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে খুলনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চরমে পৌঁছেছে। খুন, রাহাজানি, চুরি ও ছিনতাই যেন খুলনাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত অস্ত্রের মহড়া, মারামারি ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম সন্তোষজনক নয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, পুলিশ, বিজিবি, যৌথবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সিভিল প্রশাসন—সবাই এ পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারে না। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও হতাশাজনক। বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনকে সহযোগিতা ও সামাজিকভাবে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলেও বাস্তবে তারা তা করছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বতঃস্ফূর্ত, অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দমুখর হওয়া কঠিন হবে।

আইন শৃঙ্খলার অবনতিতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে খুলনার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে, যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহলকে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানান বক্তারা।