বেরোনোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

whatsapp sharing button

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমেই চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলা শুরুর পর ট্রাম্প যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৪ দিন পার হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি, বরং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে।

হামলার পরিকল্পনার সময় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ও এর প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে—সৌদি আরব, কাতার, ইরাক, ওমান, বাহরাইন—তেলের স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব একটি তেল শোধনাগার বন্ধ করেছে, কাতার গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করেছে, এবং ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা কমে আসছে।

উপরন্তু, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা মোকাবিলায় সহায়তা শুরু করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া থেকে টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেমের অংশ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিচ্ছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা দল সম্ভাব্য পরিণতি পুরোপুরি বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট যুদ্ধ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া, পূর্বের প্রশাসনগুলো হরমুজ প্রণালী নিয়ে যে বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দিয়েছিল, তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পণ্য পরিবহন কখন স্বাভাবিক হবে তা অজানা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও সামরিকভাবে ইরান তুলনামূলকভাবে দুর্বল, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন লরেন্স ব্রেনান বলেছেন, “যদি হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করা না যায়, কোনো পক্ষই প্রকৃত বিজয় দাবি করতে পারবে না।”

ট্রাম্প সম্প্রতি ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চলমান যুদ্ধের দীর্ঘায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলের বিরশেবায় সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বিবিসি জানায়, ওমানে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে দুইজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দুবাইয়ের আল কুজ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫ হাজার হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি কার্যত জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং সামরিক চাপ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তথ্যসূত্র : সিএনএন, আল-জাজিরা, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান