২৫ মার্চ রাতে শেখ সাহেব কোনো ধরনের তারবার্তা পাঠাননি: ব্রিগেডিয়ার আযমী

whatsapp sharing button

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, ‘শেখ সাহেব তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন’ এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি দাবি করেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে কোনো ধরনের তারবার্তা পাঠাননি এবং ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ পাঠানোর প্রসঙ্গটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মঙ্গলবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। স্ট্যাটাসটির শিরোনাম ছিল—“প্রসঙ্গ: স্বাধীনতার রূপকার”।

ব্রিগেডিয়ার আযমী তার পোস্টে লিখেছেন, ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিব স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন যে, তিনি স্বাধীনতা চান না। তাঁর ভাষায়, “শেখ সাহেব চেয়েছিলেন অখণ্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে, স্বাধীন বাংলাদেশ নয়।” তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হওয়ার আগেই বেতার ও টেলিফোন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়, ফলে শেখ মুজিব কোনোভাবেই চট্টগ্রামে স্বাধীনতার বার্তা পাঠাতে পারেননি। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “২৫ মার্চ রাতে শেখ সাহেব কিভাবে জানতেন যে, তৎকালীন মেজর জিয়া তার উর্দুভাষী অধিনায়ককে হত্যা করে বিদ্রোহ করেছেন?”—এইসব যুক্তির ভিত্তিতে তিনি বার্তা পাঠানোর দাবি ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলেন।

তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্ব ও ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এ ভারতে বাংলাদেশ সরকারের গঠন সম্পর্কেও মন্তব্য করেন আযমী। তিনি বলেন, “সব আওয়ামী লীগ নেতা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাজউদ্দীন নিজ উদ্যোগেই পাঁচ সদস্যের অস্থায়ী সরকার গঠন করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যদিও তখন পর্যন্ত দলের কারও সঙ্গে তার দেখা হয়নি।” শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণকে মুক্তিযুদ্ধের ‘ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে স্বীকার করলেও, আযমীর মতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল ভূমিকা পালন করেন তাজউদ্দীন আহমদ। তবে তিনি বলেন, “আমার বাবা শেখ সাহেবকে স্বাধীনতার ‘স্থপতি’ বলেছেন। আমিও মনে করি, এটাই সবচেয়ে যুক্তিসংগত মূল্যায়ন।”