রাজনীতিতে প্রটোকল মানেই কড়াকড়ি নিরাপত্তা, সাইরেন বাজিয়ে রাস্তা ফাঁকা করা আর সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা। কিন্তু রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে সাম্প্রতিক এক দৃশ্য সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখা গেছে প্রটোকলের কঠোরতা ছাড়াই জনসাধারণের সঙ্গে মিশে চলাচল করতে—যেন ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো গণতান্ত্রিক দেশের দৃশ্য।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুরে। একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ের পথে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর রাজধানীর এক ব্যস্ত মোড়ে যানজটে আটকে পড়ে। প্রত্যাশা ছিল, মুহূর্তেই রাস্তা ফাঁকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। অন্য সব গাড়ির মতোই সিগনালে অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রীর বহর। কোথাও অতিরিক্ত তৎপরতা নেই, নেই হর্ন বা সাইরেনের চাপ।
গাড়ির কাচ নামিয়ে পথচারীদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। অনেকেই বিস্ময়ে থমকে দাঁড়ান, কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই দৃশ্য, যা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
প্রত্যক্ষদর্শী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম রাস্তা ফাঁকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু উনি আমাদের সঙ্গেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এটা সত্যিই ভিন্ন অভিজ্ঞতা।” এক রিকশাচালক জানান, আজ মনে হয়েছে উনিও আমাদের মতোই এই শহরের নাগরিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি আচরণগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি প্রতীকী বার্তা। নেতৃত্ব জনগণের ঊর্ধ্বে নয়—বরং জনগণের অংশ। এমন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মত ভিন্ন। তারা মনে করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রটোকল শিথিল করা হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি থাকা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে দেখা এই দৃশ্য নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল একটি মুহূর্ত নয়—বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। প্রটোকলের দেয়াল পেরিয়ে জনগণের সঙ্গে মিশে চলার এই চিত্র বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।