যুদ্ধাস্ত্র কেনার চেষ্টায় ভারত

whatsapp sharing button

অপারেশন সিঁদুরের ব্যর্থতার পর মোদির যুদ্ধ উন্মাদনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ব্যর্থতা ঢাকতে আরও যুদ্ধাস্ত্র কেনার চেষ্টা করছে ভারত সরকার।

ভারতীয় সংবাদপত্র “দ্য ট্রিবিউন” একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য জোর দিয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলি রাফাল নির্মাণকারী ফরাসি সংস্থা দাঁসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোনও ভারতীয় কোম্পানি তৈরি করবে।

আইএএফ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আরও ১১৪টি রাফাল বিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। আইএএফ এমন বিমান চায় যা বহু-ভূমিকা পরিচালনায় সক্ষম। বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। ট্রিবিউন বলেছে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি টেন্ডারের পরিবর্তে ফরাসি রাফালকে বেছে নেবে। যুদ্ধবিমানগুলি “মেড ইন ইন্ডিয়া” প্রকল্পের অধীনে ভারতে তৈরি করা হবে।

রাফালের নির্মাতা দাঁসো অ্যাভিয়েশনের একটি ভারতীয় সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে। ফরাসি সংস্থাটির সাথে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি হতে পারে, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।দ্য ট্রিবিউন মতে, যুদ্ধবিমানটিতে বিভিন্ন অস্ত্র এবং ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দেশীয় উপকরণ থাকতে পারে।


এম-৮৮ ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক সাফরান কোম্পানি হায়দ্রাবাদে একটি ইঞ্জিন কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। আইএএফ এর জরুরিভাবে নতুন জেটের প্রয়োজন। এদিকে, নতুন বিমান কেনা পাকিস্তানের হাতে রাফাল বিমান ধ্বংসের একটি স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন যে স্ক্যাল্প আছে, তার থেকে দূরপাল্লার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল থাকতে পারে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ রাফালে। যে স্ক্যাল্প ব্যবহার করে পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক ঘাঁটিতে নিশানা করেছিল ভারত।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে ইতিমধ্যে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান আছে। আরও ২৬টি রাফালের (নৌবাহিনীর জন্য) অর্ডারও দিয়েছে ভারত। যদি বিমান বাহিনীর নতুন প্রস্তাব মেনে চুক্তি স্বাক্ষর হয়, তাহলে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে রাফালের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৬টি।


সমালোচকরা বলছেন, মোদি সরকার যুদ্ধাস্ত্র কিনে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের অর্থ ব্যবহার করছে। অপারেশন সিঁদুরের ব্যর্থতার পর রাজনৈতিক সংকটে আটকে থাকা মোদি সরকার তার সাম্প্রতিক কৌশলগুলিতেও ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের হাতে ছয়টি রাফাল বিমান ধ্বংসের পর ভারত নতুন বিমান কিনতে বাধ্য হচ্ছে।