ভারত এবার খাগড়াছড়ির অস্থিরতার বিষয়ে মুখ খুলল

whatsapp sharing button

‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অক্ষম এবং নিয়মিতভাবে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা তাদের অভ্যাস। তাদের জন্য ভালো হবে, যদি তারা আত্মানুসন্ধান করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর স্থানীয় উগ্রবাদীদের সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে।’

সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এ কথাগুলো বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

সাম্প্রতিক খাগড়াছড়িতে সহিংসতার ঘটনায় ‘ভারতের ইন্ধন’ থাকার যে কথা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, সেটিকে কড়া ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, এ অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় মারমা জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছিল পার্বত্য এ জেলায়।

পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ শয়ন শীল নামের ১৯ বছর বয়সি এক তরুণকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার জড়িত বাকিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টায় ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

এমন উত্তেজনার মধ্যে গুইমারায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতা হয়, সেখানে গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। এ সময় সেখানে বেশ কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরে মারমা কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ‘ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি’ বলে জানিয়েছেন পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক।

ঢাকায় ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নে খাগড়াছড়িতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ‘ভারতের ইন্ধন’ থাকার অভিযোগ করেন।