বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া বেশ কিছুদিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তার চিকিৎসায় পরামর্শ দিচ্ছেন।
গত ২৩ নভেম্বর রাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয়। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব জানান, শুক্রবার রাতে মেডিকেল বোর্ড দীর্ঘ বৈঠকে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ চিকিৎসা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেছে। বোর্ডের পরামর্শে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বর্তমান অবস্থায় তা সম্ভব নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজন হলে বিদেশে নেওয়া লাগতে পারে। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা এখন সেই উপযোগী নয়। আল্লাহর রহমতে যদি তিনি স্থিতিশীল হন, তখন বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হবে।ভিসা ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, সম্ভাব্য বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় ভিসা, বিদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে রাখা হয়েছে। যদি দেখা যায় তিনি ফ্লাই করার মতো অবস্থায় আছেন, তাহলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
হাসপাতালে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, অনেক মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছেন। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক ও অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা বিঘ্নিত হচ্ছে। সবাইকে অনুরোধ করছি কেউ হাসপাতালে ভিড় করবেন না। আমরা নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের মাধ্যমে তথ্য জানিয়ে দেব।