খুলনা ব্যুরো: আধুনিক উচ্চফলনশীল জাতের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের আদি ফসলের বীজ। সেই বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় বীজ সংরক্ষণ ও কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয় বীজ মেলার। স্থানীয় ১৭টি গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী কৃষক অত্যন্ত আগ্রহ ও যত্নের সঙ্গে দেশীয় বীজ সংগ্রহ করে মেলায় প্রদর্শন করেন।
এ মেলার মাধ্যমে কৃষকরা একে অপরের সঙ্গে বীজ বিনিময়ের সুযোগ পান, যা আগামী মৌসুমের চাষাবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকেরা তাদের সংরক্ষিত কয়েকশ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ধান, সবজি, ডাল ও তেলবীজ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
মেলার স্টলগুলোতে শোভা পায় নানা ধরনের দেশীয় ধানের বীজ- মরিচশাইল, রানীস্যালোট, হিজলি, দিঘা, মোরগশাইল, কালামাণিকসহ বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন সবজির বীজ। গ্রামীণ নারীরা শুধু প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; নিজেদের মধ্যে বীজ বিনিময়ের পাশাপাশি আগত দর্শনার্থীদের কাছে বীজ বিপণন ও বিতরণও করেন।
হারিয়ে যাওয়া দেশীয় জাতের বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের লক্ষে বটিয়াঘাটা উপজেলা অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী গ্রামীণ বীজমেলা ২০২৬ জার্মানি ভিত্তিক সংস্থা ‘মিজরিও’-এর সহযোগিতায় আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘লোকজ’ ও মৈত্রী কৃষক ফেডারেশন।
মেলা শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার কামরুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে দেশীয় জাতের বীজই আমাদের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। প্রান্তিক নারী কৃষকরা বংশপরম্পরায় যেভাবে এসব বীজ সংরক্ষণ করে আসছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, বীজ জাতির প্রাণ। কৃষকরা যদি বীজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
লোকজ-এর ট্রেজারার অজিত কুমার তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকার।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিগার সুলতানা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর মোল্লা এবং উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সুলতানা নাছরিন। দিনব্যাপী আয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও কয়েকশ উৎসুক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় প্রদর্শিত বীজের স্টলগুলোর বীজের সংখ্যা, বৈচিত্র্য, মান ও উপস্থাপন কৌশলের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্বাচনী প্যানেল অংশগ্রহণকারী নারী কৃষকদের মধ্য থেকে সুকদাড়া গ্রামের করুণা মণ্ডলকে প্রথম, বিধবা নারী নমিতা সরকারকে দ্বিতীয় এবং হালিয়া গ্রামের শিউলী মণ্ডলকে তৃতীয় স্থান নির্বাচিত করে পুরস্কার প্রদান করে। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী সকল নারী কৃষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়।