খালিশপুরে দেড় শতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনার খালিশপুর ছিল কর্মচঞ্চল মানুষের পদচারণায় মুখর। মিল-কলকারখানার হুইসেলের শব্দে শুরু হতো মানুষের সকাল, আর সেই তালে চলতো শ্রমজীবী মানুষের জীবন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ভিড় জমাতো এই অঞ্চলে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে একে একে বন্ধ হয়ে যায় শিল্পকারখানা। কর্মসংস্থানের অভাবে প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে খালিশপুর আজ যেন নীরব এক জনপদে পরিণত হয়েছে। বেড়েছে দারিদ্র্য, অভাব আর অসহায় মানুষের সংখ্যা।
ঠিক এমন এক সময় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওব্যাট হেল্পার্স। এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনটি হয়ে উঠেছে আশার আলো। অনেক পরিবার তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পেয়েছে নতুন দিশা। যেন অন্ধকারে এক আলাদিনের চেরাগ—যার স্পর্শে বদলে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন।
পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এবং মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রবিবার বেলা ১১টায় খালিশপুরের বঙ্গবাসী এলাকায় দেড় শতাধিক দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করে ওব্যাট হেল্পার্স ও হিউম্যানিটি।
প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া হয় ৩ লিটার ভোজ্য তেল, ২৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আটা, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি খেজুর, ২ কেজি ছোলা এবং ২ কেজি চিনি—যা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে জানান আয়োজকরা।
সংগঠনটির খুলনা প্রজেক্ট অফিসার মোঃ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এখন টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরো ও দৈনিক সময়ের খবর পত্রিকার সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ওব্যাট হেল্পার্স যেভাবে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তা সমাজের জন্য অনুকরণীয়। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষরা যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে ঈদের আনন্দ থেকে কেউ বঞ্চিত থাকবে না।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, ওব্যাট হেল্পার্সের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার খান সাহেব দেশের মানুষের উন্নয়নে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য যেভাবে সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন, সেই মানবিক ধারাবাহিকতা খুলনায় ধরে রাখার চেষ্টা করছি। সমাজ পরিবর্তনের জন্য আমাদের প্রত্যেককে মানবিক দায়িত্ব নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সময়ের আলো পত্রিকার খুলনা ব্যুরো ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শেখ শান্ত ইসলাম, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের ফটো সাংবাদিক এম এ হাসান, সময়ের খবরের ফটো সাংবাদিক রবিউল ইসলাম উজ্জ্বল, দৈনিক আমার একুশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রবি, ওব্যাট মনিটরিং অফিসার শারজিল জিলানী, প্রধান শিক্ষিকা নাওশিন জেবা, তানভির স্বপন, হুমায়রা হুমা, জালালুদ্দিন, মোঃ আনিসুর রহমান মুন্নাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
খালিশপুরের অনেক পরিবারের জন্য এই ঈদ উপহার শুধু খাদ্যসামগ্রী নয়- এটি ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সমাজের পাশে থাকার একটি উজ্জ্বল বার্তা। শিল্পনগরীর হারানো প্রাণচাঞ্চল্য হয়তো এখনও ফিরে আসেনি, কিন্তু মানবিক উদ্যোগগুলো নতুন আশার আলো জ্বালাচ্ছে মানুষের হৃদয়ে।