প্রতিনিয়ত নজিরবিহীন ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

whatsapp sharing button

কামাল হোসেন।।ঢাকা।।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে দেশের সর্বস্তরের মানুষ উদ্বেগ ও সমবেদনা জানিয়েছে। তার জন্য দোয়া চেয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা। হাসপাতালে দেখতে গেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তার রোগমুক্তি কামনা ও দোয়া করে দেশের আলেমসমাজ।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেন-‘একটা মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী থাকতে পারে? কালচারাল সফট পাওয়ারের সাহায্য ছাড়াই, কোনো বুদ্ধিজীবী গ‍্যাংয়ের নামজপ ছাড়াই খালেদা জিয়া যেভাবে মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিফাইং ক‍্যারেক্টার (ঐক্যের প্রতীক), এটা এক প্রকার আশীর্বাদ।’

খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় সারা দেশের ছাত্রসমাজকে দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গতকাল ডাকসুর বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা বলে মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থরক্ষার আন্দোলনে তিনি কয়েক দশক ধরে অবিচল ভূমিকা পালন করেছেন। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রচক্রের লাগাতার নির্যাতন, মিথ্যা মামলার পরিক্রমা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহতার মাঝেও তার অটল মনোবল ও আপসহীন অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেন- ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অমানবিক আচরণ ও নিষ্ঠুরতার কারণেই খালেদা জিয়ার এমন শারীরিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি আগামীর বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রামের জন্য অনুকরণীয় এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত। তার দীর্ঘায়ু বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।’

দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা ও সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। প্রধান উপদেষ্টা তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

গতকাল বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে ড. ইউনূস খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উপদেষ্টা পরিষদের দোয়া

গতকাল সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

অন্যান্য দল ও নেতাদের দোয়া

এছাড়া খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে হাসপাতালে ছুটে যান অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গতকাল খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ‍ছুটে যান। এর আগে শুক্রবার রাতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে যান।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে হাসপাতালে ছুটে যান অন্যান্য দলে নেতারা

গতকাল খালেদা জিয়াকে দেখতে যান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত সেলিম এবং এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন এবং এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিরা খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা ও তার জন্য দোয়া করেন।

এছাড়া কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা বিবৃতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেছেন। তার রোগমুক্তি কামনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ অনেকেই। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেছেন।

সবশেষে বলাই যায় বেগম খালেদা জিয়ার অগাধ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, ইস্পাত সম মনোবল , অগাধ দেশপ্রেম, গণতন্ত্রের জন্য অসীম আত্মত্যাগ আত্মদান তাকে আজ সর্ব মহলে সত্যি অনন্য মহিয়ান করেছেন।