অপমান “বাংলাকে” তোপের মুখে যা বললেন -প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী

whatsapp sharing button

মুম্বাই একটি সিনেমার প্রচারে গিয়েছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী। সেখানে এক বাংলা সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তাকে বাংলায় প্রশ্ন করেন। তার উত্তরে প্রসেনজিৎ তাকে ইংরেজিতে বলেন, ‘হিন্দিতে বলুন, বাংলায় বলার কী দরকার ?’

তার এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রীতিমত তোপের মুখে পড়েছেন এই সুপারস্টার। ক্লিপসটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাকে অপমান করার অভিযোগে শুরু হয় বিতর্ক।

অবশেষে ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) নিজের ফ্যান পেজে একটি লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে প্রসেনজিৎ প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হওয়াকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এক বিবৃতি দিয়ে প্রসেনজিৎ বলেছেন, “কিছুদিন হল আমার একটা কথা, বলা ভালো একটা বাক্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেটা নিয়েই কিছু বলতে চাই। আমি ৪২ বছর মূলত বাংলায় কাজ করছি। গত কয়েকবছর জাতীয় স্তরে কয়েকটা কাজ করার সুযোগ এসেছে। সেরকমই একটা হিন্দি সিনেমার ট্রেলার মুক্তি উপলক্ষ্যে ১ জুলাই মুম্বাইয়ের জুহু পিভি আর-এ সাংবাদিক সম্মেলন হচ্ছিল। ডায়াসে যারা ছিলেন, ছবির পরিচালক, শিল্পী, অন্যান্যরা, সবাই প্রথম থেকেই মূলত ইংরেজিতেই কথা বলছিলেন। বাংলার এক সাংবাদিক আমায় বাংলায় প্রশ্ন করেন। তিনি আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। অত্যন্ত স্নেহের পাত্রী। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল বাংলায় উত্তর দিলে হয়তো অনেকেই সঠিক মানে বুঝতে পারবেন না। যেহেতু ওখানে বাংলা ভাষা বোঝেন না এমন মানুষের সংখ্যাই অনেকটা বেশি। তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই আমি ওনাকে বলি যে বাংলা ভাষায় কেন প্রশ্ন করছেন?”

ফেসবুক বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু সামাজিক মাধ্যমে শুধুমাত্র ওই একটা সেনটেন্স তুলে দেওয়া হয়েছে, হয়তো অনেকে ওই কথার আক্ষরিক অর্থের সূত্রে আঘাত পেয়েছেন। কষ্ট আমিও পেয়েছি, এখনও পাচ্ছি। কারণ ওই কথার এরকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে ভাবতেই পারিনি। হয়তো কয়েকটা ইংরেজি শব্দ ব্যহহার করে আমার বলা কথার উদ্দেশ্যটা আমি বোঝাতে পারিনি। আর আমার ধারণা সেখান থেকেই ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কারণ নিজের মাতৃভাষাকে অসম্মান করার কথা আমি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারি না।

প্রসেনজিৎ বলেন, “বাংলা আমার প্রাণের ভাষা, ভালবাসার ভাষা। তবে চিরকাল আমার কাছে বাংলার মানুষের বিচার শিরোধার্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই ধারণা অটুট থাকবে। তবে শেষে যেটা না বললেই নয়, আমি এইটুকু বুঝেছি আমার বলা কথায় আপনাদের যথেষ্ট আঘাত লেগেছে, তাই আমি দুঃখিত। সম্পর্কে যেটুকু তথ্য বা আমার তখনকার ভাবনাটুকু আপনাদের জানালাম, ভাল থাকুন। নমস্কার।”