ট্রাম্পকে ‘নাচ-গান’ করেছিলেন মোদি: কি বলছে ভারত

whatsapp sharing button

বিশ্বজুড়ে আলোচিত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের গোপন নথিপত্র ফাঁসের পর এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিস্ফোরক এক তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত তিন মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথির মধ্যে ২০১৭ সালের একটি ইমেইল বার্তায় দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে ‘নাচ-গান’ করেছিলেন মোদি।

কী ছিল সেই বিতর্কিত ইমেইলে?

২০১৭ সালের ৯ জুলাই লেখা এক ইমেইল বার্তায় জেফরি এপস্টাইন দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি তার পরামর্শ মেনে নিয়েছিলেন। ইমেইলটিতে লেখা ছিল, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি (আমার) পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বার্থে ইসরায়েলে গিয়ে নাচ-গান করেছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাদের (মোদি ও ট্রাম্প) দেখা হয়েছিল। এটি কাজে দিয়েছে!”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মোদি যখন প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন, তার ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগেই ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এপস্টাইনের দাবি অনুযায়ী, মোদির সেই ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফর ছিল মূলত ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের একটি অংশ।
ভারতের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যান

কুখ্যাত মার্কিন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ইমেল তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম থাকা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশটির জাতীয় রাজনীতিতে। দিল্লির পক্ষ থেকে এই দাবিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফর একটি ঐতিহাসিক সত্য, কিন্তু এপস্টাইনের ইমেইলে যা দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি এই তথ্যকে একজন দণ্ডিত অপরাধীর ‘বাজে জল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, একে চরম অবজ্ঞার সাথে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “তথাকথিত ‘এপস্টাইন ফাইলস’-এর একটি ইমেল বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ইসরায়েল সফর সংক্রান্ত কিছু তথ্য রয়েছে বলে আমাদের নজরে এসেছে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের সত্যতা বাদ দিলে, ওই ইমেলের বাকি অংশগুলো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অসার কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলোকে চরম অবজ্ঞার সঙ্গে খারিজ করা উচিত।”উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ইসরায়েল সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগেই এই ইমেল ফাঁসের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলে তোলপাড়

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে বর্ণনা করে সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, একজন কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও দালালের সাথে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্পর্ক ঠিক কতটা গভীর ছিল?

কংগ্রেস দলের মুখপাত্র পবন খেরা ২০১৯ সালের ২৪ মে-র (যেদিন মোদি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন) দুটি ইমেল নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। ইমেলগুলো এপস্টাইন পাঠিয়েছিলেন স্টিভ ব্যানন এবং শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে।

ইমেলে যা দাবি করা হয়েছে, এপস্টাইন মুকেশ আম্বানিকে লিখেছিলেন যে, “স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে দেখা করলে মোদি সম্ভবত আনন্দিত হবেন।” ব্যাননকে লেখা ইমেলে এপস্টাইন দাবি করেন, মোদি সংক্রান্ত একটি খুবই আকর্ষণীয় বৈঠক সেরেছেন তিনি। যদিও কার সঙ্গে সেই বৈঠক হয়েছে, তা খোলসা করেননি।

এপস্টাইন আরও লেখেন, “(প্রধানমন্ত্রী মোদি) বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জিতেছেন। তাঁর লোক জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটনে কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলে না।” ইমেলে ভারতের প্রধান শত্রু হিসেবে চীন এবং চীনের প্রক্সি হিসেবে পাকিস্তানের উল্লেখ ছিল।
কংগ্রেসের দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধী হিসেবে পরিচিত একজনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নাম জড়ানোয় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং এ নিয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে এই ধরনের নথি প্রকাশ্যে আসা ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।এপস্টাইন ফাইল থেকে পাওয়া এই তথ্য কেবল ব্যক্তিগত কোনো দাবি নাকি এর পেছনে গভীর কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।