নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ বেশ সতর্ক ও পরিমিতভাবে সময় কাটাচ্ছেন। ৩৪ বছর বয়সি এই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নেতা নির্বাচনের সময় কট্টর প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলী ও আপসকামী অবস্থানে দেখা গেছে।
জানুয়ারির শুরুতে গ্রাসি ম্যানশনে (মেয়রের সরকারি বাসভবন) উঠার পর তিনি নগরীর দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজগুলোতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবাসন নির্মাণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং গণশৌচাগার স্থাপনের মতো জনহিতকর প্রকল্পের ঘোষণা দিলেও তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে বাজেট ঘাটতি। চলতি অর্থবছরে শহরের ২ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা সামাল দিতে গিয়ে মামদানিকে তার উচ্চাভিলাষী সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচ্য বিষয় হচ্ছে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে মামদানির ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্ক। অতীতে নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের ইতিহাস থাকলেও, মামদানি সেই পথে যাননি। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার’ নিশ্চিত করতে তিনি গভর্নরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরবর্তী যোগাযোগ বজায় রাখাও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য অবাক হওয়ার বিষয়। তবুও তিনি তার মূল প্রতিশ্রুতি, অর্থাৎ ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর দাবিতে অটল রয়েছেন।
পুলিশি কার্যক্রম ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়েও নতুন মেয়রকে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অতীতে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কড়া সমালোচক ছিলেন, কিন্তু মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে স্বপদে বহাল রেখেছেন এবং সাম্প্রতিক কিছু পুলিশি অ্যাকশনও প্রশংসা করেছেন।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যু এবং অ্যান্টিসেমিটিজম (ইহুদিবিদ্বেষ) নিয়ে কিছু প্রাথমিক নীরবতা এবং সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্ক তৈরি হলেও পরে তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মামদানি দ্রুত ভুল সংশোধন করে বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন, যা একজন নতুন মেয়র হিসেবে তার পরিণত কৌশলের পরিচায়ক।
মেয়র হিসেবে প্রথম সপ্তাহগুলোয় জোহরান মামদানির এই কৌশলী, সাবলীল এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলো দেখাচ্ছে যে, তিনি শহরের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুসংগঠিত ও সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছেন। তথ্যসূত্র : সিএনএন