বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করলেন আদিল রশিদ। শুরুতে খরুচে বোলিং করা স্যাম কারান পরে করলেন হ্যাটট্রিক। শ্রীলঙ্কাকে অল্পতে গুটিয়ে অনায়াস জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
পাল্লেকেলেতে শুক্রবার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে লঙ্কানদের ১১ রানে হারিয়েছে হ্যারি ব্রুকের দল।
১৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে চার বল বাকি থাকতে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ড ১৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৫ রান তোলার পর বৃষ্টি শুরু হলে সেখানেই শেষ হয় খেলা। সে সময় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ১১ রানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।
পাল্লেকেলের ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হয় ৯০ মিনিট দেরিতে। টস হেরে ব্যাটে নেমে তৃতীয় ওভারে কামিল মিশারাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। লম্বা সময় ক্রিজে থাকলেও ইনিংসকে গতি দিতে পারেননি পাথুম নিসাঙ্কা। তবে অন্য প্রান্তে কুসাল মেন্ডিসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় স্বাগতিকরা।
৭ ওভারে দলটির রান ছিল ১ উইকেটে ৭৬ রান। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে নিসাঙ্কাকে কট বিহাইন্ড করে ৫২ রানের জুটি ভাঙেন রাশিদ। এরপর দিক হারায় লঙ্কানরা।
২০ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে ৩৭ রান করা মেন্ডিসকেও ফেরান রাশিদ। পরে তিনি নেন ধনাঞ্জায়া ডি সিলভার উইকেট।
ইংলিশ লেগ স্পিনারের ছোবলে ৯৮ রানে ৬ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা প্রতিরোধ গড়ার আভাস দেয় দাসুন শানাকা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে।
ষোড়শ ওভারের চতুর্থ বলে শানাকাকে ফিরিয়ে ৩১ রানের জুটি ভাঙেন কারান। পরের দুই বলে মাহিশ থিকশানা ও মাথিশা পাথিরানাকে ফিরিয়ে পূরণ করেন হ্যাটট্রিক।
প্রথম ২ ওভারে ৩৫ রান দেওয়া কারান নিজের তৃতীয় ওভারে ৩ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন এই অলরাউন্ডার।
রান তাড়ায় ভালো শুরু পায় ইংল্যান্ড। ইশান মালিঙ্গার বলে জস বাটলার বোল্ড হলে ভাঙে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নিজের পরের ওভারে জ্যাকব বেথেলকেও ফেরান মালিঙ্গা। তবে টম ব্যান্টনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ফের দ্রুত এগোতে থাকে ইংল্যান্ড। ১৫ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে ২৯ রান করা ব্যান্টনকে থামান পাথিরানা।
৩৫ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে আরেক ওপেনার ফিল সল্ট করেন ৪৬ রান।
একই মাঠে আগামী রোববার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ১৬.২ ওভারে ১৩৩ (নিসাঙ্কা ২৩, মিশারা ১৬, মেন্ডিস ৩৭, আসালাঙ্কা ২, ডি সিলভা ১১, লিয়ানাগে ১, শানাকা ১৪, থিকশানা ০, পাথিনারা ০, মালিঙ্গা ০*; কারান ৩-০-৩৮-৩, আর্চার ৩-০-২২-০, ওভারটন ২.২-০-১৭-২, ডসন ৪-০-৩১-২, রাশিদ ৪-০-১৯-৩)
ইংল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৫ ওভারে ১১৫) ১৫ ওভারে ১২৫/৪ (সল্ট ৪৬, বাটলার ১৭, বেথেল ৯, ব্যান্টন ২৯, ব্রুক ১৬*, কারান ১*; থিকশানা ৩-০-৩১-০, পাথিরানা ৪-০-১৮-১, মালিঙ্গা ২-০-২৪-২, হাসারাঙ্গা ৪-০-৩৬-০, শানাকা ২-০-১২-১)
ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ১১ রানে জয়ী ইংল্যান্ড
ম্যান অব দা ম্যাচ: আদিল রাশিদ
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে