খুলনায় ডাঃ লাকিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

whatsapp sharing button

খুলনায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে ২৬ বছর কাজ করার পর শুধু অবসর চাইতেই জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন মোসাঃ আকলিমা খাতুন।

অভিযোগ উঠেছে, প্রখ্যাত চিকিৎসক ও অধ্যাপক ডাঃ সামসুর নাহার লাকির নির্দেশে তাকে অবরুদ্ধ করে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়—জীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মামলার বাদী মোসাঃ আকলিমা খাতুন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে (১৯৯৯–২০২৫) লাকির বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন। বয়স এবং স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব না হওয়ায় চলতি বছরের মে মাসে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার দুঃস্বপ্ন।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই, সামসুর নাহার লাকির নির্দেশে আকলিমাকে তার বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর শারীরিকভাবে মারধর করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা যখন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, তখন অভিযুক্ত চিকিৎসক ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান।

২ আগস্ট ঢাকায় আত্মগোপন থেকে ফিরে এসে তিনি পুনরায় আকলিমাকে ভয়ভীতি দেখান। ওই সময় বাসায় উপস্থিত থাকা আলিমুর রেজা ও কাজী আবুল হাসান মিলে আকলিমাকে কিল-ঘুষি মারলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

অজ্ঞান অবস্থায় থাকা আকলিমার জমানো ডিপিএসের টাকা ৬, লাখ ৬১ হাজার ৪০০ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপরও থেমে থাকেননি লাকি। তাকে আবার আটক রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি, তার জায়গা-জমি লিখে দেওয়ার জন্য মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।

পরিস্থিতি সহ্যের বাইরে গেলে আকলিমার ভাই ও ছেলে মুচলেকা দিয়ে তাকে মুক্ত করেন। এরপর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর আকলিমা খুলনার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় লাকি ছাড়াও অভিযুক্ত করা হয়েছে আরও ৭ জনকে। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পিবিআই খুলনাকে।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, আলিমুর রেজা, মিসেস মলি, কাজী আবুল হাসান, মোহাম্মাদ আলী, মোঃ ইলিয়াস, শাওলী হাসান এবং রাদ হাসান।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এড. এম মাফতুন আহমেদ।

আকলিমার ভাইয়ের ভাষ্যমতে, বোন বলেছিল ‘এখন শরীর আর চলে না।’ কিন্তু তার জবাবে যে যন্ত্রণা আসবে, তা কল্পনাও করিনি।

লিগ্যাল নোটিশ, পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া, সবই যেন ব্যর্থ, কারণ অভিযোগ অনুযায়ী অধ্যাপকের প্রভাব এখনও থামেনি। নির্যাতনের শিকার এ নারীর অবসর চাওয়ার গল্প যেন এক ভয়াবহ নিপীড়নের টালী খাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।