স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তার দল আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বহু নেতা-কর্মীকে আইনের আওতায় আনে ঠিক একই গতিতে তাদের দেওয়া হচ্ছে জামিন। এরমধ্যে দলটির মন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীও রয়েছেন। পুলিশ বলছে, আওয়ামী আসামিরা যদি এভাবে জামিন পেতেই থাকে তাহলে আগামী নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে যাবে।
২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৩০২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মূলত তাদের ৪টি কারণে গ্রেপ্তার করা হয়। সেগুলো হচ্ছে— জুলাই বিপ্লবে ছাত্র জনতার ওপর হামলার মামলা, বিপ্লবের পর সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ঝটিকা মিছিল করে লিফলেট বিতরণ এবং পুরনো মামলা। ঠিক একই সময়ে ৩১ হাজার ২৭২ জন জামিন নিয়েছেন। জামিনের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে—অসুস্থ, বয়স্ক ও দলীয় পদে না থাকা। আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করতে পারছে না পুলিশ। এ ছাড়া কিছু সুবিধাবাদী আইনজীবী অর্থ নিয়ে এই আসামিদের জামিনে সহযোগিতা করছেন।
গত ১ বছরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিভিন্ন মামলায় ২ হাজার ৮১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ২ হাজার ২১২ জন। ঢাকা রেঞ্জে গত ১ বছরে গ্রেপ্তার হয়েছে ৬ হাজার ৯২৩ জন আর জামিন পেয়েছেন ৪ হাজার ৬১২ জন। রাজশাহী রেঞ্জে গ্রেপ্তার হয়েছে ৪ হাজার ৯৩৩ জন আর জামিন পেয়েছে ৩ হাজার ৯৯৮ জন। খুলনা রেঞ্জে গত ১ বছরে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ হাজার ৯০১ জন আর জামিন পেয়েছেন ৪ হাজার ৬১২ জন।
বরিশাল রেঞ্জে গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ৫১২ জন আর জামিন পেয়েছেন ১ হাজার ৪৩৩ জন। রংপুর রেঞ্জে গ্রেপ্তার হয়েছে ৩ হাজার ৫৯১ আর জামিন ২ হাজার ৪১৪ জন। ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার হন ২ হাজার ৯৬৬ জন। জামিন পেয়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জন। চট্টগ্রাম রেঞ্জে গত ১ বছরে গ্রেপ্তার হয়েছে ৭ হাজার ৫২৩ জন আর জামিন পেয়েছে ৫ হাজার ৮১৩ জন। আর সিলেট রেঞ্জে গত ১ বছরে গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ২৯৮ জন। এদের মধ্যে জামিন পেয়েছে ৯৮০ জন।
ফ্যাসীবাদের দোসররা গণহারে জামিন পেলে আগামী সংসদ নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে। এতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেকায়দায় পড়বে পুলিশ। অনেকেই ফৌজদারী মামলার আসামি, অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবে হত্যা, গুলি ছোঁড়া, হামলা, পুলিশের সঙ্গে মিলে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার মামলা রয়েছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা-কর্মী। এরাই মূলত গত ১৫ বছরে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তারা এভাবে জামিনে মুক্ত হলে আবারও সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। বেড়ে যাবে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা।
পুলিশের বিরুদ্ধে যেমন মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তেমনই সুবিধাবাদী কিছু আইনজীবী জামিন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা অর্থের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের জামিনে সহযোগিতা করছেন। যারা জামিনে বের হয়ে আসছেন তারা আবার ওইসব আইনজীবীর কাছে অন্য আসামির স্বজনদের পাঠাচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আসামিরা জামিন কেন পাচ্ছেন তার কারণ বলতে পারবে আদালত। তবে পুলিশের কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।