ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

whatsapp sharing button

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ২৪ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৮ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫ দশমিক ৪৭ ডলারে লেনদেন হয়।

পরবর্তীতে ডব্লিউটিআইয়ের দাম আরও বাড়ে। তা ১ দশমিক ১৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৬ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে বাজারে অস্থিরতা থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া মন্তব্য করেছেন, উত্তেজনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম। তাঁর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি চান না। সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স