ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে বহু শতাব্দীর ইতিহাস ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি হামলা থেকে রক্ষা পায়নি গাজার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও। এর ফলে দুই বছরের এই যুদ্ধে গাজা থেকে হারিয়ে গেছে বা লুট হয়ে গেছে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে ওসমানীয় আমল পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি বিরল প্রত্নবস্তু। ফিলিস্তিনিদের পরিচয় মুছে ফেলতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় প্রত্নস্থলগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ‘৩১৬টির বেশি’ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও ঐতিহাসিক ভবন পুরোপুরি কিংবা আংশিক ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস হওয়া এই স্থাপনাগুলোর অধিকাংশই মামলুক ও ওসমানীয় আমলের, বাকিগুলো প্রাথমিক ইসলামি যুগ ও বাইজেন্টাইন আমলের। এই ধ্বংসযজ্ঞে বাদ যায়নি মামলুক আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রাসাদ কাসর আল-বাশাও।
ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেরও পুরোনো। অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে সেন্টার ফর কালচারাল হেরিটেজ প্রিজারভেশনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞ হামুদা আল-দাহদার জানান, গাজার পুরোনো শহরের আল-দারাজ এলাকায় অবস্থিত এই প্রাসাদের ৭০ শতাংশ অংশ ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনে যা অপরাধ এবং বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে ওসমানীয় যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু যুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে। এসব প্রত্নবস্তু স্থানীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ছিল।
ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর হাজারো বিরল প্রত্নবস্তু উধাও হয়ে গেছে। প্রতিটি প্রত্নবস্তুই ছিল ইতিহাসের অংশ… এসব লুটপাট জাতীয় পরিচয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে। এটি মানবজাতির সমষ্টিগত ঐতিহ্যের ওপর এক গুরুতর অপরাধ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি