ভেনেজুয়েলাকে চীনের সমর্থন, আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনা

whatsapp sharing button

ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক চাপের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে চীন ভেনেজুয়েলাকে অর্থনৈতিক সাহায্য এবং বাণিজ্যিক সুবিধা দিয়ে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা আমেরিকার পশ্চিম গোলার্ধে প্রভাব রক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জকে সামনে আনছে।

সম্প্রতি চীন ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে একটি “শূন্য শুল্ক” বাণিজ্য চুক্তি, যা সাংহাই এক্সপো ২০২৫-এ ঘোষণা করা হয়। এই চুক্তি ঘটেছে এমন সময় যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক জাহাজ পাঠিয়েছে ভেনেজুয়েলার কাছে নারকো-ট্রাফিকিং (মাদক পাচার) নিয়ন্ত্রণের জন্য। চুক্তি প্রায় ৪০০ পণ্যের উপর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করছে, যা চীনের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল এবং অন্যান্য বানিজ্যের দরজা খুলে দেয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার মতো মাদক-চালিত রাষ্ট্রের প্রতি “শূন্য সহনশীলতা” দেখানোর হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিমানবাহী দক্ষিণ কমান্ড অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এটির মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত মাদক পাচারের পথগুলো নজরদারি করা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী অফিসাররা গেরিলা প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সম্ভাব্য আমেরিকান হামলার বিরুদ্ধে।

চীন শাঙ্ঘাই এক্সপো ২০২৫-এ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে শূন্য শুল্ক চুক্তি ঘোষণা করে। ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র বাণিজ্য উপ-মন্ত্রী কোরোমোটো গোদয় বলেন, চুক্তিটি প্রায় ৪০০ শুল্ক বিভাগকে কভার করে এবং চীনা ও ভেনেজুয়েলার পণ্যের উপর শুল্ক তুলবে। চীনের বিশেষজ্ঞ গর্ডন চ্যাং মন্তব্য করেছেন, “এটি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে দখল করার লক্ষণ। তিনি আরও বলেছেন, মাদুরো চীনের দিকে ঝুঁকেছেন মার্কিন হুমকির ভয়ে, যা তার জন্য অস্থায়ী সমাধান হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে চীনের ওপর তার নির্ভরতা বাড়াবে।

গত দুই দশকে চীন প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার ঋণ ভেনেজুয়েলাকে দিয়েছে, যার বেশিরভাগ তেলের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়াও চীন উপগ্রহ নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ সুবিধা স্থাপন করেছে, যেমন এল সোমব্রেরো গ্রাউন্ড স্টেশন, যা ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদে চীনের প্রভাবকে আরও দৃঢ় করছে।

ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে ইরান, রাশিয়া এবং কিউবা নিজেদের শক্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা দেশটিকে অসমমিত যুদ্ধ, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং আদর্শগত সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহার করছে। রাশিয়ার সামরিক শক্তির ১২ বিলিয়নের বেশি অস্ত্র বিক্রি করেছে। ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসকে ভেনেজুয়েলার মাধ্যমে সমর্থন দিচ্ছে এবং ড্রোন উৎপাদন ও ইউরেনিয়াম খননের আগ্রহ রয়েছে।

তথ্যসূত্র : ফক্স নিউজ