সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানী বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই ইতিহাস সৃষ্টির পেছনে ছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণী জারা রহিম, যিনি নির্বাচনী প্রচারণার মূল কৌশল নির্ধারণ করেছেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানীর একজন উপদেষ্টা জানান, জারা রহিমের পরামর্শেই আমরা প্রচারাভিযানটি শহরের বাস্তব রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে সাজাতে পেরেছি। এই কৌশল পুরো খেলার ধারা বদলে দিয়েছে।
জারা রহিম কয়েক মাস ধরে জোহরানের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। সূত্র জানাচ্ছে, নির্বাচনী পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিটি গণমাধ্যম কৌশল এবং ভোটার সংযোগের উদ্যোগে তার অবদান ছিল নির্ধারক
ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় ৯০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন। তারা রাস্তায়, মেট্রোর ভিড়ের মধ্যে, দোকানের বারান্দা থেকে মসজিদ ও চার্চের সামনে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। এই তৃণমূল আন্দোলনের মাধ্যমে শহরের মুসলিম, আফ্রিকান, হিস্পানিক ও বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের ভোটাররা নিজেদের অংশ খুঁজে পেয়েছিলেন।
৩৫ বছর বয়সী জারা রহিমের রাজনৈতিক ও ডিজিটাল কৌশলের দক্ষতা শুধু ভোটার সংযোগেই সীমাবদ্ধ নয়। ফ্লোরিডার সাধারণ অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণী ছোটবেলা থেকেই গল্প বলার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিউনিকেশনস পড়ার সময় তিনি শিখেছেন কিভাবে প্রযুক্তি ও ডিজিটালের মাধ্যমে মানুষের মনে পৌঁছানো যায়।
জারা ওবামার নির্বাচনী প্রচারণায় ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে ডিজিটাল কন্টেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেন। হিলারি ক্লিন্টনের প্রচার ও বিভিন্ন ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার দক্ষতার ফলে জোহরানের প্রচারে ডিজিটাল মিডিয়া এবং মাঠের বাস্তবতাকে একত্রিত করা সম্ভব হয়।প্রতিপক্ষের ইসলাম বিদ্বেষী মন্তব্যের সময় জারা সাহসী ও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য ভয় ও অজ্ঞতার প্রকাশ। এই সাহসিকতা শুধু প্রচারণা নয়, পুরো নির্বাচনী নীতি ও জনগণের আস্থা গঠনে ভূমিকা রেখেছে।