চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এলাকার অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড নামের একটি টাওয়েল ও মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির কারখানায় লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ হয়নি এখনো। শুক্রবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস। তবে তার আগেই পুরো কারখানাটি আগুনে ভস্মীভূত হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, নৌবাহিনীসহ সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড ও আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের ২৫টি ইউনিট। এছাড়া উদ্ধার সহায়তায় যোগ দিয়েছিল ২ প্লাটুন বিজিবি।
এদিকে এ দুর্ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, এই ভবনের ডাক্তারদের এপ্রোন, মেডিকেল গাউন, ক্যাপসহ নানা ধরনের ইকুইপমেন্ট ছিল। ফলে এটি দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলেছে। এই ভবনের যে প্রিন্সিপাল সেটি মানা হয়নি। প্রথম তিনটি ফ্লোরে ছিল অ্যাডামস ক্যাপ, পরের দুটি ফ্লোর ছিল আরেকটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম। এরপর আবার উৎপাদন ইউনিট। এখানে তিনটি ফ্লোরে উৎপাদন ও চারটি ফ্লোরে গুদাম ছিল। বলতে গেলে এটি আরেকটি রাসায়নিক এজেন্টে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এই ভবনটি বিল্ডিং কোড মানেনি। পার্শ্ববর্তী যে ভবনটি ছিল সেটি ছিল অত্যন্ত লাগোয়া। ফলে আমাদের ফায়ার ফাইটাররা সেখানে কোনো পজিশন নিতে পারেনি। ১৭ ঘণ্টা আগুন জ্বলার পর ভবনটির পঞ্চম থেকে অষ্টম তলা ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। ৮০০ থেকে ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আগুন জ্বলতে থাকায় ভবনের আরসিসি কলাম ভেঙে পড়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হয়েছে বলে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এত বড় দুর্ঘটনায় আমাদের কোনো হতাহতের খবর নেই। এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সফলতা। আমাদের আরেকটি বড় সফলতা হলো, একটি মিশ্র ভবনে রাসায়নিক দ্রব্য থাকার পরও আগুনটা অন্যত্র ছড়ায়নি। এ জন্য আমাদের ফায়ার ফাইটাররা, সশস্ত্র বাহিনী নিরলসভাবে চেষ্টা করেছেন।
অন্যান্য ভবন মালিক যারা রয়েছেন, তারা যেন দ্রুত একটা মেনটেন্যান্স রক্ষা করেন। সামনে একটি সিজন আসছে। এই সিজনে ছোট ঘটনা থেকে অনেক বড় ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সবার উচিত ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা এবং সচেতন হওয়া। কারণ এ ধরনের আগুন শুধু মালিক নয়, পুরো দেশের জন্য ক্ষতি। আমরা এই ধরনের ক্ষতি চাই না। আমরা চাই প্রথমত আমাদের প্রাণ রক্ষা, দ্বিতীয়ত সম্পদ যেন বিনষ্ট না হয়।
এ ঘটনায় আগুনের সূত্রপাত কি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতো তা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, অ্যাডামস ক্যাপ প্রতিষ্ঠানটির ফায়ার সেফটি প্ল্যান নেই। তবে তারা ফায়ার সার্ভিসের কাছে আবেদন করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণ এলেও পুরোপুরি নির্বাপণ হতে আরো সময় লাগবে।
সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আমাদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি এটি গঠন করা হবে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। এছাড়া আগামীকালের মধ্যে এই ভবনে একটি সার্ভে করা হবে। এতে ভবনটির নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা একটি ধারণা দিতে পারবো।