খুলনা ৬ আসনে পরাজয়ের পর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মানুষের পাশে বাপ্পী

whatsapp sharing button

খুলনা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। নির্বাচনের পর থেকেই তিনি খুলনা-৬ সংসদীয় আসন-এর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, দীর্ঘ দুই মাস আমার দলের নেতা-কর্মী ও কয়রা–পাইকগাছার মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। অনেকেই ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে নির্বাচনী কাজ করেছেন। এই ঋণ শোধ হওয়ার নয়। নির্বাচিত হই বা না হই, এলাকার মানুষকে ছেড়ে যাব না। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মহান আল্লাহ আমাকে জয়ী করেননি, কিন্তু আমি আমার অঙ্গীকার রক্ষায় আপনাদের মাঝেই আছি। সুখে–দুঃখে পাশে থাকব।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার সমর্থকদের কিছু কর্মকাণ্ডে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকটি স্থানে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না, মারামারি বা সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাব।

নিজ দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বাপ্পী বলেন, এই আসনে আমরা জয়ী হতে পারিনি, তবে সারা দেশে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। আমি নির্বাচিত না হলেও উন্নয়ন থেকে কাউকে বঞ্চিত হতে দেব না।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের আশ্বস্ত করছি-যেকোনো বিপদে আমরা পাশে থাকব। নির্ভয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন। কেউ অন্যায় আচরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। অনেকেই এটিকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রশংসা করছেন।

উল্লেখ্য, এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ সব পক্ষকে সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।