খুলনা: খুলনার দৌলতপুরে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ও দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান মোল্লা (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে নিহত মাহবুবের বাবা আবদুল করিম মোল্লা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১২।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর আতাহার আলী জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে যেকোনো কারণ থাকতে পারে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
গত শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে মাহবুবুর রহমানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুর্বৃত্তরা পায়ের রগ কেটে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন খুলনা-যশোর মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনায় জনমনে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা ও নানা প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন, “যদি গুলি করেই হত্যা করা হয়, তবে পায়ের রগ কেন কাটা হলো?” আবার কেউ বলছেন, “পায়ের রগ কেটে দিলে আবার গুলি করার প্রয়োজন কী?”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে মাদক ব্যবসা, এলাকা দখল ও আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত পুরনো দ্বন্দ্ব। নিহত মাহবুবের বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং মাদক নিয়ে স্থানীয় একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। এমনকি বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করেও বিরোধ চরমে পৌঁছেছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, “মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার ও জায়গা দখল সংক্রান্ত বিরোধ—এই তিনটি দিক সামনে রেখে আমরা তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছি। খুনিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে।”
তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, কুয়েটের সাম্প্রতিক আন্দোলনে মাহবুবের শিবির বিরোধী ভূমিকা এবং দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার ঘটনাও এই হত্যাকাণ্ডের একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতার সময় মাহবুবকে দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায়। এরপরই তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সর্বশেষ ঘটনাটি এখন খুলনা শহরের ‘টক অফ দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য না আসায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে—কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে, আর কেন এমন নির্মম পন্থায় মাহবুবকে হত্যা করা হলো?