নববধূকে নিয়ে কোমর সমান পানি, হাঁটু সমান কাদা পার হলেন বর

whatsapp sharing button

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে বিয়ে করে নববধূকে নিয়ে নৌপথে নিজের বাড়ি সন্দ্বীপে ফিরছিলেন দিবাকর বণিক। সেই আনন্দঘন দিনটি মুহূর্তেই পরিণত হয় বিষাদ ও দুর্ভোগে। কুমিরা থেকে গুপ্তছড়া ঘাটে নেমেই দেখেন ভাটা শুরু হয়েছে। সামনে কোমরসমান পানি আর হাঁটুসমান কাদা। বাধ্য হয়েই নববধূকে কোলে তুলে প্রায় আধা কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে এগোতে হয় দিবাকরকে। সেই দৃশ্যের ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দিবাকরকে বলতে শোনা যায়, আজকে আমার একটা আনন্দের দিন। এই আনন্দের দিনে আমি উনাকে নিয়ে এক হাঁটু কাদা মাড়িয়ে কোলে করে আনতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সবচেয়ে দুর্বিষহ যাতায়াত সংকটের জায়গা হয়ে উঠেছে এই দ্বীপ। দীর্ঘ ৮০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ সন্দ্বীপ উপকূলীয় নৌবন্দর ও নৌঘাটগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকলেও টেকসই সমাধান এখনও অধরা।

গত ২৬ অক্টোবর ঘটে আরও একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। এক বৃদ্ধা যাত্রী প্রায় এক কিলোমিটার কাদা পাড়ি দিয়ে স্পিডবোটের কাছে যাওয়ার সময় অচেতন হয়ে পড়ে যান। কয়েকজন যুবক তাকে দুই হাত ধরে টেনে নৌযানের কাছে নিয়ে যান। ঘটনাটির ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সমাধান কী? জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) নয়ন শীল আমার দেশকে জানান, চলমান খননকাজ সম্পন্ন হলে ফেরির পল্টুনে স্পিডবোট সহ অন্যান্য যাত্রীবাহী নৌযানগুলোকে ভেড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে, তখন আর এই দুর্ভোগ থাকবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ—বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত খনন, পল্টুন বা উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে যাতায়াত ব্যবস্থা এখনো আগের মতোই বিপদজ্জনক। ভাইরাল হওয়া ভিডিও আবার স্মরণ করিয়ে দিলো শুধু দিবাকরের গল্প নয়; এটি সন্দ্বীপের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রাম।