মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায় চুক্তিতে অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থ তসরুপের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।
সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন সহকারী পরিচালক মো. তানজিল হাসান। মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, সাবেক উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল ও ইবনে আলম হাসান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আফতাব হোসেন খান ও মো. আব্দুস সালাম এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, উল্লেখিত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২০১৬ সালে সিএনএস লিমিটেডকে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ দিতে আগের দরপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাতিল করে ‘একক উৎসভিত্তিক দরপত্র’ আহ্বান করা হয়। পরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা না করে শুধু সিএনএসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ওই দরপত্র অনুযায়ী পাঁচ বছরের জন্য টোল আদায়ের চুক্তি করা হয়। এতে টাকার অঙ্কে নয়, বরং মোট আদায় হওয়া টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে (ভ্যাট ও আয়কর ব্যতীত) সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এ চুক্তির আওতায় সিএনএস মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করে। কিন্তু আগে ২০১০-১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল আদায়ের জন্য এমবিইএল-এটিটি (দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান) যৌথভাবে মাত্র ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় কাজ করে। পরে ২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় (ভ্যাট ও আয়করসহ) চুক্তি দেয়া হয়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সিএনএস তথাকথিত ‘নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও অবকাঠামো ব্যয়’ বাবদ আরও ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা দাবি করে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দুদক মনে করছে, সিএনএসকে কার্যাদেশ দেয়ার ফলে সরকারের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও সিএনএস লিমিটেডের পরিচালকরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও আত্মসাতের মাধ্যমে নিজেদের বা অন্যকে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।